নথিবিহীন অভিবাসীদের বহিষ্কারে ইইউর নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত

আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৬ ১১:১১:১১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৬ ১১:১১:১১ পূর্বাহ্ন

ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা নথিবিহীন অভিবাসীদের জোরপূর্বক বহিষ্কারসংক্রান্ত নতুন বিধিমালায় আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ‘রিটার্ন রেগুলেশন’ বা প্রত্যাবাসন বিধিমালার এই চূড়ান্ত সম্মতি দেওয়া হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এটি ইইউর সরকারি জার্নালে প্রকাশের মধ্য দিয়ে কার্যকর হয়েছে।
 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিদেশিদের যে সদস্যরাষ্ট্রে তাঁরা অবস্থান করছেন, সেখান থেকে চলে যেতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। অন্যথায় তাঁদের বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও কাউন্সিলের মধ্যে গত জুনে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে এই বিধিমালায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোতে ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ইইউ কাউন্সিলের সভাপতিত্বকারী দেশ আয়ারল্যান্ডের বিচার, স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান জানান, বর্তমানে ইইউ ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া বিদেশিদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই বাস্তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করেন না। এই হার বাড়াতেই নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
 

নতুন বিধিমালায় বহিষ্কার ত্বরান্বিত করতে একাধিক কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৮ মাস থেকে বাড়িয়ে ২৪ মাস করা হয়েছে, যা প্রয়োজনে আরও ছয় মাস বাড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ভূখণ্ডে পুনঃপ্রবেশের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ করা হলেও, নিরাপত্তাহুমকি বিবেচিত হলে সদস্যরাষ্ট্রগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে।
 

বিধিমালায় বলা হয়েছে, বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার স্থগিত থাকার যে ব্যবস্থা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ আপিল চলমান অবস্থাতেও বহিষ্কার কার্যকর হতে পারে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ চাইলে সন্দেহভাজন ব্যক্তির শরীর, ব্যক্তিগত সামগ্রী ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি ও জব্দ করতে পারবে। অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুসন্তানসহ পরিবারকে ‘শেষ অবলম্বন’ হিসেবে আটক কেন্দ্রে রাখার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে এই নিয়মে।
 

তবে নতুন এই বিধিমালার তীব্র সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। বেলজিয়ামভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা পিকাম-এর (পিআইসিইউএম) অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা চিয়ারা কাতেল্লি বলেন, এই বিধিমালা অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের পরিধি বাড়িয়েছে। এর ফলে আরও বেশি মানুষ সরকারি পরিষেবা নিতে বা সুরক্ষার আবেদন করতে ভয় পাবেন। এটি কার্যত অনিয়মিত অবস্থায় থাকা মানুষের সংখ্যা কমানোর পরিবর্তে আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাম্মদ আরিজ উলফি 
নির্বাহী সম্পাদক: আবুল হুসাইন 
সহযোগী সম্পাদক: মো: মনিরুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক: সাইফুর রহমান প্রিন্স 
সহযোগী সম্পাদক: মো: আলমগীর হোসেন

ঠিকানা:
সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
টেলিফোন: +৮৮০২২২২২২৩৫৫০
ইমেইল : shokolshongbad@gmail.com