‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার উপায় খুঁজতে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের (চিফ অব স্টাফ) নিয়ে এক জরুরি বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের এই বৈঠক কবে অনুষ্ঠিত হবে কিংবা কী ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
চলতি বছরের ৭ আগস্ট যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার ও পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর কোনো বহিরাগত আক্রমণ হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর গত ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের নিয়ে গঠিত ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’র প্রথম বৈঠকে রিয়াদে একটি স্থায়ী সচিবালয় গঠন ও সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।
নিউইয়র্কের বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদি আরবের মক্কাসহ বিভিন্ন বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত সাম্প্রতিক হামলাগুলোর তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সৌদি আরবের পূর্ণ আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়। মূলত ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের তায়েফ ও ইয়ানবু শহরের দিকে ছোড়া ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের ঘটনার পরপরই এ ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।