ইয়েমেনে সরকারপন্থী বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই দক্ষিণ সৌদি আরবের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুথিরা।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই হামলার দাবি করেন। তিনি জানান, হামলায় ওই ঘাঁটির অস্ত্রভান্ডার এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে হামলাটি ঠিক কবে চালানো হয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। হুথিদের দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি বিমানবাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। গতকাল শনিবার তারা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখায় হুথিদের একাধিক যান ও অস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করেছে। এ ছাড়া ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আরও কয়েকটি হুথি অবস্থানে হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী।
এই সংঘাতের জেরে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার অনুরোধ জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার ট্রাম্পও এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন আপাতত সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিরাও তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি এই সংঘাতে না জড়ানোর অনুরোধ করেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভালোভাবেই সমাধান হয়ে যাবে।
গত এক সপ্তাহের হুথি অভিযানে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের অবশিষ্ট অংশ এবং কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ফলে সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে। সম্প্রতি তারা সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ও ঘোষণা করেছে।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর এই গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও গত জুলাই থেকে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।