চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা ফেরিঘাট ইজারার শর্তাবলীর কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না লক্ষ্মীপুর ও ভোলা জেলা পরিষদের যৌথ মালিকানাধীন একটি ঘাটে। সরকারের পক্ষ থেকে ১৭টি কঠোর শর্তে নাছির মাঝির ঘাট-তুলাতলী-কাঠির মাথা ফেরিঘাটটি (মতিরহাট রাস্তার মাথা হতে মাঝেরচর-মদনপুর-চরপদ্মা রুট) ইজারা দেওয়া হলেও সরেজমিনে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে ১৪ লাখ ৯৫ হাজার ১৭৫ টাকায় ঘাটটি ইজারা নেন কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি এলাকার মো. মুকতার হোসেন। ইজারার ১ ও ৩ নম্বর শর্ত অনুযায়ী ঘাটে পর্যাপ্ত নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ফিটনেস সনদপ্রাপ্ত নৌযান পরিচালনা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় লাইফ জ্যাকেট ও বয়া থাকার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে সরেজমিনে ঘাটে গিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুরক্ষায় ট্রলারগুলোতে কোনো লাইফ জ্যাকেট বা বয়া নেই। শুধু তাই নয়, যাত্রী পারাপারের জন্য ঘাটে নেই কোনো নিরাপদ পন্টুন, সিঁড়ি কিংবা ওঠানামার সুব্যবস্থা। চরম অবহেলার মধ্য দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ এই নৌপথ ব্যবহার করছেন।
ইজারা চুক্তির ১ নম্বর শর্তানুযায়ী ঘাটের উভয় তীরে কমপক্ষে ৪টি করে মোট ৮টি নিবন্ধিত ও ফিটনেস সনদযুক্ত নৌযান থাকার কথা। কিন্তু নিয়ম মেনে সেখানে কোনো ট্রলার পরিচালনা করা হচ্ছে না। প্রতিদিন ফিটনেসবিহীন ট্রলারে অরক্ষিত পন্টুন দিয়ে উত্তাল নদী পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ইজারার শর্ত ভঙ্গের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইজারাদার মো. মুকতার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।