জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন নামের এক নারী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে সিয়াম অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে সাবিনার অবস্থানের খবর পেয়ে প্রেমিক সিয়াম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপন করেছেন। অন্যদিকে সিয়াম তাঁকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ওই নারী। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সিয়ামের বাড়ির সামনে সাবিনা অবস্থান করছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবিনা ইয়াসমিন মিনিগাড়ি গ্রামেরই শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। অন্যদিকে সিয়াম হিন্দা এলাকার আবদুল লতিফের ছেলে হলেও মিনিগাড়ি গ্রামে নানার বাড়িতে বসবাস করেন। প্রতিবেশী হিসেবে পরিচয়ের সূত্র ধরে গত প্রায় দুই বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাবিনার স্বামী একটি এনজিওতে চাকরি করেন এবং তাঁদের সংসারে চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
সাবিনা ইয়াসমিন দাবি করেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিয়াম তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সিয়াম তাঁর ঘরেও যাওয়া-আসা শুরু করেন। একদিন এক প্রতিবেশী সিয়ামকে ওই ঘরে দেখে ফেললে তিনি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এরপরও সিয়াম বিয়ের আশ্বাস দিয়েই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন বলে অভিযোগ করেন সাবিনা।
ওই নারী আরও জানান, হঠাৎ তিনি জানতে পারেন সিয়াম অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করতে ধাওয়াপাড়া কাপাসটিকরি গ্রামের এক প্রবাসীর বাড়িতে গেছেন। এ খবর পেয়েই তিনি গতকাল রাতে সিয়ামের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছেন। সিয়াম ফিরে এসে বিয়ে না করা পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে যাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিয়ামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা সাকিলুর রহমান তালুকদার জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে, তবে সামাজিকভাবে এটি সমাধানের চেষ্টা সফল হয়নি। এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুক্তারুল আলম বলেন, ঘটনাটি শোনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এর সুরাহা না হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।