সাপ্তাহিক ছুটির দিনে যখন বহু মার্কিন নাগরিক অবসর সময় কাটাচ্ছিলেন, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়ে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাত্র ১০ ঘণ্টা ৪১ মিনিটে তিনি একের পর এক ৬০টি পোস্ট করেন। এসব পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি নিজের নানা অতিরঞ্জিত ছবি, মানচিত্র ও প্রশংসামূলক বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের পোস্ট করা এসব এআই ছবির কোনোটিতে দেখা যায়, তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে হকি স্টিক দিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন, শত্রুদের ওপর বোমা হামলা চালাচ্ছেন এবং অন্ধকার রাস্তায় প্রাণঘাতী রোবট নিয়ে টহল দিচ্ছেন। কোনো কোনো মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্য দেশ দখল করতে দেখা গেছে, আবার কোনোটিতে একটি অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিতও ছিল। পাশাপাশি ডেমোক্রেটিক পার্টিকে আক্রমণ করে নিজেকে ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দাবি করেছেন তিনি।
এসব ডিজিটাল বা এআই-নির্ভর উপস্থাপনায় ট্রাম্পকে কখনো যোদ্ধা, কখনো বিজয়ী, আবার কখনো ইতিহাসের বিশাল এক চরিত্র হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ছবিতে নিজের বয়স কমিয়ে এবং শরীরকে আরও পেশিবহুল হিসেবেও উপস্থাপন করেছেন তিনি। গত সপ্তাহে একটি পোস্টে চাঁদের ছবির সঙ্গে লেখা ছিল, ‘চাঁদ আমাদের’। কয়েক সপ্তাহ আগের আরেকটি ছবিতে তাঁকে এক ভিনগ্রহের প্রাণীকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
আরেকটি ছবিতে ট্রাম্পের মুখ রেসলিং তারকা হাল্ক হোগানের পেশিবহুল শরীরে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরদিনের একটি এআই ছবিতে দেখা যায়, গত বছর মারা যাওয়া জনপ্রিয় এই রেসলিং তারকার সঙ্গে হাত মেলানোর প্রতিযোগিতায় ট্রাম্প সহজেই জয়ী হচ্ছেন। কল্পিত এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই ধারাবাহিক পোস্ট তাঁর ব্যক্তিগত মানসিক জগতের একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর এ ধরনের অস্বাভাবিক ও অতিরঞ্জিত পোস্ট সমালোচকদের কাছে তাঁর মানসিক অবক্ষয়ের সূচক হিসেবে ধরা পড়ছে। বয়সের সঙ্গে ট্রাম্পের মানসিক অবক্ষয় আরও বাড়ছে বলে দাবি করছেন তাঁরা।
ট্রাম্পের সাবেক ডেপুটি হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি সারাহ ম্যাথিউজ এসব পোস্টের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ট্রাম্প এত বেশি পোস্ট করছেন যে মানুষ এসবের অস্বাভাবিকতা নিয়ে আর আগের মতো বিস্মিত হচ্ছে না। ৮০ বছর বয়সী একজন প্রেসিডেন্ট বিপুল সময় ব্যয় করে নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরতে এ ধরনের এআই-নির্ভর কনটেন্ট ছড়াচ্ছেন। ম্যাথিউজ মনে করেন, এটি চোখের সামনেই একজনের মানসিক অবক্ষয় দেখার মতো একটি বিষয়।