ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে একটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) হামেদান-সানানদাজ মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার পর ট্যাংকারটিতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সানানদাজের গভর্নর জানিয়েছেন, ট্যাংকার বহনকারী গাড়িটির ব্রেকে কারিগরি ত্রুটির কারণেই মূলত দুর্ঘটনাটি ঘটে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হতাহতের এই সংখ্যা জানানো হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় গভর্নর বলেন, তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ হলে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার ও বাসের ভয়াবহ দুর্ঘটনার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, পুরোনো যানবাহন এবং ভারী পণ্যবাহী যান চলাচলের কারণে দেশটিতে প্রায়ই এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০১৮ সালেও সানানদাজের কাছে যাত্রী তোলার জন্য থেমে থাকা একটি বাসে জ্বালানি ট্যাংকারের ধাক্কায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে সড়ক দুর্ঘটনার হার বিশ্বের গড়ের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। দেশটির দুর্বল সড়কব্যবস্থা ও ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ঘাটতিকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরানভিত্তিক গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল ট্রিবিউনের ২০১৭ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৮ লাখ মানুষ আহত হন।