মুসলিম পরিচয়ে ২ নারী সাংবাদিককে থানায় আটকে পিটুনির অভিযোগ

আপলোড সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ০৯:৩২:৫৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ০৯:৩২:৫৯ অপরাহ্ন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘৪পিএম’-এ কর্মরত দুই নারী সাংবাদিককে থানায় আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই দুই সাংবাদিকের অভিযোগ, তাঁরা মুসলিম—এটি জানার পর তাঁদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে অভিযোগকারী এক সাংবাদিকের রেকর্ড করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
 

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন শাহীন খান ও নাফিসা খান। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে পুলিশের কথিত এই অমানবিক নির্যাতনের প্রমাণস্বরূপ নিজেদের শরীরে লাঠির আঘাতের দাগ দেখান।

 

দিল্লির সাকেত এলাকায় ম্যাক্স হাসপাতালের একটি নতুন ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত।
 

দিল্লি পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে সাংবাদিক শাহীন খান জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি দেখেন এলাকাটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ভিআইপিদের আগমন উপলক্ষে এই পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়েছে। পরে তিনি ও তাঁর সহকর্মী নাফিসা খান অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে মুখ্যমন্ত্রীর একটি কাটআউটের সামনে দাঁড়িয়ে একটি ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, সাধারণত যে এলাকায় এত আবর্জনা থাকে, সেখানে ভিআইপিদের আগমন উপলক্ষে কেন এমন পরিপাটি পরিবেশ তৈরি করা হলো?
 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘ভিডিও করার সময় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা পেছন থেকে এগিয়ে এসে হুমকি দেন এবং ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ক্যামেরার সামনে এর প্রতিবাদ জানালে সেখানে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যকে ডাকা হয় এবং আমাদের জোর করে সাকেত থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।’

 

থানায় নেওয়ার পর তাঁদের সঙ্গে চরম অমানবিক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই দুই সাংবাদিক। নাফিসা খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘যাঁদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা, তাঁরাই অত্যাচার করছেন। আমরা মুসলিম, এটা জানার পর ওরা আমাদের আরও বেশি মারধর করতে শুরু করে। আমাদের যখন পুলিশ মারছিল, এসএইচও (স্টেশন হাউস অফিসার) তখন বসে বসে হাসছিলেন।’ এ সময় তাঁদের অশ্রাব্য ভাষায় কটূক্তি করা হয় এবং এমন আইনি ধারা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, যা তাঁদের কল্পনাতীত।
 

শাহীন খান অভিযোগ করেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বা থানায় কোনো চিকিৎসাসাহায়তা চেয়েও তাঁরা পাননি। পরে ১১২ নম্বরে ফোন করার পর তাঁরা চিকিৎসাসাহায়তা পান।

 

এই ঘটনার পর সাকেত থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ এই ঘটনায় এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) দায়ের করতে অস্বীকার করছে।
 

এদিকে দুই নারী সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া (পিসিআই)। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ওই দুই সাংবাদিককে একটি ঘরে নিয়ে যেতে বলেন, যেখানে নারী পুলিশরাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাঁদের মারধর করা হয়।
 

তবে নারী সাংবাদিকদের আনা এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির পক্ষ থেকে দিল্লি পুলিশের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাম্মদ আরিজ উলফি 
নির্বাহী সম্পাদক: আবুল হুসাইন 
সহযোগী সম্পাদক: মো: মনিরুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক: সাইফুর রহমান প্রিন্স 
সহযোগী সম্পাদক: মো: আলমগীর হোসেন

ঠিকানা:
সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
টেলিফোন: +৮৮০২২২২২২৩৫৫০
ইমেইল : [email protected]