বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অফিস সহায়ক পদে চাকরি পেতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন রিপন হোসেন নামের এক প্রার্থী। নিজের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ব্যবহার করেছিলেন প্রক্সি পরীক্ষার্থী (ভাড়াটে পরীক্ষার্থী)। দুই ধাপের পরীক্ষায় এ জালিয়াতি করে পার পেয়ে গেলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে ধরা পড়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) চাকরিতে যোগদানের জন্য পিএসসি সচিবালয়ে গেলে পরিচয় যাচাইয়ের সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে তাঁকে শেরেবাংলা নগর থানায় সোপর্দ করে তাঁর বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
আটক রিপন হোসেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার বাহা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। অফিস সহায়ক পদে তাঁর রোল নম্বর ছিল ২১০১১৮৭।
পিএসসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, নিয়োগপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার চাকরিতে যোগ দিতে কমিশন সচিবালয়ে উপস্থিত হন রিপন হোসেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁর পরিচয় যাচাই শুরু করেন। পরিচয় যাচাইয়ের সময় তাঁর প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার দিনের সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তির চেহারা মিলিয়ে দেখা হয়। এতে দুই চেহারার মধ্যে অমিল পাওয়ায় তাঁর পরিচয় নিয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পিএসসির উপপরিচালক শোভন সমাদ্দারকে জানানো হলে তিনি উপসচিব ওয়াসিমুল বারীকে অবহিত করেন। পরে কর্মকর্তারা যৌথভাবে ওই প্রার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
কর্মকর্তাদের জেরার একপর্যায়ে রিপন হোসেন তাঁর প্রতারণার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, লিখিত ও মৌখিক—কোনো পরীক্ষাতেই তিনি নিজে অংশ নেননি। দুই পরীক্ষাতেই তাঁর হয়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।
অপরাধ স্বীকারের পর পিএসসি কর্তৃপক্ষ তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পিএসসির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।