মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের শিকার দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার

আপলোড সময় : ০২-০৯-২০২৬ ০৫:৩২:১৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৯-২০২৬ ০৫:৩২:১৫ অপরাহ্ন

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রায় ৩ বছর বন্ধ থাকলেও থেমে নেই মানবপাচার। কখনও ভ্রমন ভিসায় কখনও কক্সবাজার থেকে নৌকাযোগে থাইল্যান্ড হয়ে পাচার করা হয় মালয়েশিয়ায়। তেমনই একজন পাচাররের শিকার নড়াইলের লরাগাতি উপজেলার অটোচালক জনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজের সন্ধ্যানে ঢাকায় এসে বিমানবন্দর এলাকায় এক দালালের সাথে পরিচয় হয়। ভালো কাজের প্রলোভনে নিয়ে যাওয়া হয় কক্সবাজারের টেকনাফে। এরপর মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে রাতের আধাঁরে জোর করে তোলা হয় নৌকায়। ১০ দিনের যাত্রায় উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছায় থাইল্যান্ড। সেখানে দুর্গম এলাকার বন্দিশালায় অমানবিক নির্যাতনে দিন কাটে। হাতে পায়ে ধরেছে পচন, খাবারের অভাবে কঙ্কাল শরীরে নেই দাঁড়ানো শক্তি।

 

৪ মাস বন্দিশিবিরে আটক রেখে চালানো হয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন। সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দাবি করা হয় মুক্তিপন। দিনমজুর পিতা মো ফুরকান টাকা দিতে না পারলে বাড়ে নির্যাতনের মাত্রা। এরপর সেখান থেকে আবারও অবৈধ উপায়ে মালয়েশিয়ায় নিয়ে ২ মাস আটকে চালানো হয় নিষ্ঠুর নির্যাতন। একই ভাবে পাচারের শিকার হয় মালয়েশিয়া যান চট্টগ্রামের মিরেরসরাই উপজেলার মো মোশাররফ হোসেন। মালয়েশিয়ার বন্দিশিবির থেকে টাকা দিয়ে একে একে সবাই মুক্তি পেলেও টাকা দিতে না পারায় মুক্তি মেলেনি হতদরিদ্র জনি ও মো মোশাররফ হোসেনের। এরপর আগস্টের ২৮ তারিখ সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের রিফিউজি ক্লিনিকের সামনে ফেলে রেখে যায় পাচারকারী চক্র। 

 

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ হাইকমিশনের যোগাযোগ করলে হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নিদেশ দেন। এরপর দূতাবাসের অথরাইজেশন লেটার দিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেনের তত্ববোধানে রাখা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দূতাবাসের সার্বিক সহায়তায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরবেন হতভাগা দুই বাংলাদেশি। 

 

থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্ত ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। দুর্গম বনাঞ্চল ও পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করানো হয়।

সচেতনতার অভাবে গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক মানুষ সঠিক তথ্য না জেনে দালালদের প্রলোভনে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। অন্যদিকে ভিটেমাটি বিক্রি করে বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে টাকা দেওয়ার পর স্বজনের খোঁজ না পেয়ে পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে দিন কাটায়। নিঃস্ব হয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

 

অন্যদিকে সীমান্ত দুই পাশের প্রভাবশালী ও স্থানীয় পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো আইনের ফাঁক গলে বহাল তবিয়তে তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট নিরসনে প্রয়োজন কঠোর সীমান্ত পাহারা, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। 




 

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাম্মদ আরিজ উলফি 
নির্বাহী সম্পাদক: আবুল হুসাইন 
সহযোগী সম্পাদক: মো: মনিরুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক: সাইফুর রহমান প্রিন্স 
সহযোগী সম্পাদক: মো: আলমগীর হোসেন

ঠিকানা:
সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
টেলিফোন: +৮৮০২২২২২২৩৫৫০
ইমেইল : [email protected]