সদ্য গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ থেকে আমানতের টাকা তুলে নিতে প্রথম দিনেই আবেদন করেছেন ১৮ হাজার গ্রাহক। এসব আবেদনে গ্রাহকেরা মোট ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলনের দাবি জানিয়েছেন। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, এককালীন পুরো আমানতের অর্থ উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন ২ হাজার ৩৬৭ জন গ্রাহক। তাঁদের আবেদনে মোট ২৪৪ কোটি টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। আমানতকারীরা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁদের জমা টাকার মূল অংশ তুলতে পারবেন। এ লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া আবেদনপ্রক্রিয়া চলবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে এই আবেদন জমা দিতে হচ্ছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে সব শাখায় পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়, শাখা পর্যায়ে জমা হওয়া আবেদনগুলো প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রধান কার্যালয় চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের সংস্থান করে শাখায় পাঠালে, সেখান থেকেই আমানতকারীদের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। অর্থ উত্তোলনের জন্য করা আবেদনে গ্রাহকের হিসাবে মোট জমা টাকার পরিমাণ, প্রত্যাশিত উত্তোলনের পরিমাণ এবং টাকা তোলার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে হচ্ছে।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর থেকেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করতে তা এক সপ্তাহ পেছানো হয়েছে বলে ব্যাংকটির এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
ব্যাংকের নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে, আপাতত শুধু ব্যক্তি আমানতকারীরা তাঁদের জমা টাকার মূল অংশ (প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্ট) তুলতে পারবেন। অর্জিত মুনাফার অর্থ পরে দেওয়া হবে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীরা ঘোষিত স্কিমের বাইরে গিয়ে আপাতত টাকা তুলতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চরম সংকটে পড়া পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত হয় এই ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক।