প্রায় সাড়ে সাত বছর পর ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে রাশেদ খাঁনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেসানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সহউপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেসানী জানান, তৎকালীন ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর এমফিল ভর্তি একটি ‘নির্দিষ্ট প্রতারণার অভিযোগে’ বাতিল করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘যেহেতু তাঁর ভর্তিই বাতিল হয়ে গেছে, তাই ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে তাঁর প্রার্থিতাও বাতিল হয়েছে এবং নির্বাচনের ওই ফল অবৈধ হয়ে গেছে। এর ফলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী রাশেদ খাঁনকে সেই মেয়াদের জন্য এককভাবে জিএস পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।’
দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছিলেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষিত হয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল থেকে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রাশেদ খাঁন পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৬৩ ভোট।
গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এখন সেই নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাশেদ খাঁনকেই ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল।