নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা হিমালয় অঞ্চল। এই প্রলয়ংকরী বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৯১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে নেপাল পর্যটন বোর্ড।
চীনের তিব্বত অংশেও এই বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে সরকারি হিসাবে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল ও তিব্বত—উভয় প্রান্তেই নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানির তোড়ে সড়ক, সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানো উদ্ধারকর্মীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। কাদামাটি, ধ্বংসস্তূপ ও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকাজে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এর মধ্যেও দুর্গত এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিখোঁজ কর্মীদের সন্ধানের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বন্যার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে একটি নতুন হ্রদ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। হ্রদটির পানি উপচে পড়লে নতুন করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে উদ্বেগ ছিল। তবে চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই হ্রদের পানির স্তর কমতে শুরু করেছে, ফলে নতুন করে বন্যার শঙ্কা আপাতত কিছুটা কমেছে।