সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি চুক্তির নথি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সৌদি আরবকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দিতে হবে—এই শর্ত পূরণ না হলে চুক্তিটি আর আলোর মুখ দেখবে না।
গত সোমবার (২৪ আগস্ট) চুক্তির নথি কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। চুক্তিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুটি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চুক্তির নথি কংগ্রেসে পাঠানোর খবরটি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্ট’-এর ১২৩ ধারার আওতায় এই চুক্তিটি করা হয়েছে। এটি পর্যালোচনার জন্য সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটি এবং প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস) ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি ৯০ দিন সময় পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। এতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান।
চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই এতে নতুন শর্ত জুড়ে দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা করেন, সৌদি আরব ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দিলেই কেবল পারমাণবিক চুক্তিটি কার্যকর হবে। মূল চুক্তিতে এ ধরনের কোনো শর্ত ছিল না।
‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেওয়ার অর্থ হলো ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। তবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার বিষয়ে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছে।
গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা এবিসি নিউজকে জানান, প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলেই কেবল পারমাণবিক চুক্তিটি সামনের দিকে এগোবে।’
তবে চুক্তিটি এক মাসের বেশি সময় আগে চূড়ান্ত হওয়ার পরও, বিশেষ করে সৌদি আরব যখন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি, তখন কেন তা আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে পাঠানো হলো, সেটি তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়।
প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা এবিসি নিউজকে জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে সৌদি আরবের নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সম্ভাবনা চুক্তিতে খোলা রাখা হয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, চুক্তির অধীনে সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো সুযোগ থাকবে না। গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘কোনো উপাদানই সমৃদ্ধ করা হবে না!’