এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের দায়ে কলিমুদ্দিন ওরফে কালু নামের এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত কলিমুদ্দিন কালু মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের আবদুল মণ্ডলের ছেলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন নেতা এবং পিরোজপুর ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ শোনার পর পুলিশ পাহারায় এজলাস থেকে নামিয়ে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত চত্বরে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পুলিশ পিকআপে করে তাঁকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারপ্রক্রিয়া
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে পিরোজপুর গ্রামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী রাতের খাবার শেষে ঘরে মশারি টাঙাচ্ছিলেন। এ সময় ইউপি সদস্য কলিমুদ্দিন কালু ওই ঘরে প্রবেশ করে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান এবং ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন।
ঘটনার তিন দিন পর ভুক্তভোগীর মা পারভীনা খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
অর্থদণ্ড ও ক্ষতিপূরণ
সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত কলিমুদ্দিন কালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। আদালত নির্দেশ দেন যে, জরিমানার এই অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। আসামির বর্তমান বা ভবিষ্যৎ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে এই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইব্রাহীম শাহীন।