লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ছাগলে আদার পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই নারীর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। এই ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের মধ্য গোপাল রায় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারীর নাম মোছা. ছাবেক্কুন্নাহার (৩৫)। তাঁর স্বামীর নাম মো. আসাদুল হক (৪৫)।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ১ আগস্ট সকালে ছাগলের বাচ্চাকে আদার পাতা খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে আসাদুলের পরিবারের বাগ্বিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এর জেরে ওই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কাকিনা বাগেরহাট চর এলাকা থেকে লোকজন ভাড়া করে এনে আসাদুল হক ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ছাবেক্কুন্নাহারের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা ওই নারীর পেটে লাথি মারেন বলে অভিযোগ।
হামলার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ছাবেক্কুন্নাহারকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ আগস্ট রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাঁর গর্ভের সন্তানটি মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়। হামলার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবার অভিযোগ করেছে। তবে চিকিৎসকের প্রতিবেদন ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই হামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—মো. মমিনুর রহমান, মো. হারুন অর রশিদ, মোছা. শরিফা বেগম, মোছা. জুই বেগম, মো. শফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর মিয়া, মো. আলমগীর, গেন্দল, মো. শরিফুল ইসলাম ও মো. নুরুল ইসলাম। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে কাকিনা ইউনিয়নে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ হামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা। ভুক্তভোগী পরিবারও এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছে।