সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ

আপলোড সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ০৭:৫৪:০৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ০৭:৫৪:৪৬ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত নাম, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট। তবে এবারের জন্মদিন পালিত হচ্ছে তাঁর অনুপস্থিতিতে। গত বছরের (২০২৫) ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এই আপসহীন নেত্রীকে বিদায় জানিয়েছিল দেশবাসী।
 

খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়, মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ শনিবার সকালে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া বিকেলে ঢাকার মহাখালী কড়াইল এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে দোয়া ও দরিদ্র-অসহায়দের মধ্যে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার প্রবেশ ছিল অনেকটাই আকস্মিক। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে স্বামী, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। পরের বছর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আহ্বানে রাজনীতিতে সক্রিয় হন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
 

আপসহীন নেত্রী ও প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
 

১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠনের মাধ্যমে এরশাদবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়। এ সময় বিভিন্ন মেয়াদে তাঁকে সাতবার আটক করা হয়েছিল। ১৯৯০ সালে গণ-আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এই আন্দোলনে সাহসী ভূমিকার কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দ্বিতীয়বার এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। তাঁর শাসনামলে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, নারীশিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
 

কারাবন্দিত্ব ও গণ-অভ্যুত্থানে মুক্তি
 

২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত সেনানিবাসের বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করা হয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও তিনি দণ্ডিত হন। কারাবন্দী অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে তিনি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান।
 

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক বন্দিত্বের পুরোপুরি অবসান ঘটে।
 

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন কেবল একজন প্রধানমন্ত্রীর জীবনকথা নয়। এটি একজন সাধারণ গৃহবধূর জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে উঠে আসা, সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের এক অবিচ্ছেদ্য ইতিহাস।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাম্মদ আরিজ উলফি 
নির্বাহী সম্পাদক: আবুল হুসাইন 
সহযোগী সম্পাদক: মো: মনিরুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক: সাইফুর রহমান প্রিন্স 
সহযোগী সম্পাদক: মো: আলমগীর হোসেন

ঠিকানা:
সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
টেলিফোন: +৮৮০২২২২২২৩৫৫০
ইমেইল : [email protected]