জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সংক্রান্ত নির্দেশনার একটি বিস্ফোরক অডিও ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের কাছে এই অডিও রেকর্ডটি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
পরে সাংবাদিকদের কাছে বহুল আলোচিত এই কথোপকথনের একটি লিখিত অনুলিপি সরবরাহ করেন প্রসিকিউটর। ওই ফোনালাপে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে কথা বলতে শোনা যায়।
ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এই কথোপকথনগুলো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯ জুলাই দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটে শেখ হাসিনা ও হাছান মাহমুদের আলাপে 'পাল্টা আগুন' দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
অডিওতে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, "ওরা আগুন দিয়ে পুড়াবে তো, তাদের বাড়ি-গাড়ি আছে, এখন সেগুলো পাবলিক দিয়ে পোড়াবে, আর কী করবে।" এরপর তিনি আরও বলেন, "এখন অন্য কিছু করে লাভ নাই, তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব।"
শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনায় সায় দিয়ে হাছান মাহমুদ একে 'টিট ফর ট্যাট' বলে উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি গায়েবানা জানাজা শেষে নেতাকর্মীদের ১০ মিনিটের মধ্যে মহল্লায় মহল্লায় অবস্থান নেওয়ার কথা জানান।
তবে শেখ হাসিনা তাকে শুধরে দিয়ে বলেন, মহল্লায় নয়, সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় যেতে হবে। একইসঙ্গে সংসদ সদস্যদের ডেকে নিজ এলাকায় 'প্রোটেকশন' বা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেন তিনি।
এই ফোনালাপের একপর্যায়ে ওবায়দুল কাদের যুক্ত হলে শেখ হাসিনা সেতু ভবনে আগুনের প্রসঙ্গ টেনে সেখানে র্যাব পাঠানোর কথা বলেন।
শেখ হাসিনা ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে বলেন, "আমাদেরও বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘরে আগুন পাবলিক দেবে। ওদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কী কী আছে খুঁজে বের করো।"