মোঃ মাসুদ রানা, কুমিল্লা: কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামের এক গৃহকর্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে পলিথিনে ভরে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাড়ির ভাড়াটে লাইলি আক্তারকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে দেবীদ্বারে আলোচিত পাঁচ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গটি নতুন করে সামনে এসেছে। ওই মামলার অন্যতম আসামি ও ফাহিমার বাবার প্রেমিকার নামও ছিল লাইলি আক্তার। বর্তমান হত্যাকাণ্ডে আটক লাইলি এবং শিশু ফাহিমা হত্যা মামলার আসামি লাইলি একই ব্যক্তি কি না, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত ফরিদা ইয়াসমিন দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামে নিজের বাড়িতে একাই থাকতেন। তাঁর স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন এবং দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়ির একটি কক্ষ লাইলি আক্তার নামের এক নারীর কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল।
গতকাল শনিবার সকালে ফরিদার মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যার দিকে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনের কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পা এখনো পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা ভাড়াটে লাইলি আক্তারকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ওসি আরও জানান, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলি আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন। এর মধ্যে রবিউল, সোহেল, ইমন ও লাইলির স্বামী আবুল কালাম আজাদের নাম রয়েছে। তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বারের কাচিসাইর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু ফাহিমা। ১৪ নভেম্বর একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ফাহিমার বাবা আমির হোসেন ও প্রতিবেশী লাইলি আক্তারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। তৎকালীন র্যাবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল, আমির হোসেনের সঙ্গে লাইলি আক্তারের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক শিশু ফাহিমা দেখে ফেলায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং লাইলি এতে প্ররোচনা দেন।
জানা গেছে, ওই মামলার আসামিরা কয়েক বছর পর জামিনে বেরিয়ে আসেন। আসামিদের মধ্যে রেজাউল ইসলাম ইমন নামের একজন প্রবাসে চলে গেলেও অন্যরা দেশেই ছিলেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—ফাহিমা হত্যা মামলার লাইলি আক্তার এবং বর্তমান ঘটনায় আটক লাইলি কি একই ব্যক্তি? যদি একই ব্যক্তি হন, তবে এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। আর্থিক লেনদেন, পূর্বশত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।