ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণের দিন, ৮ আগস্টকে ‘সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজনৈতিক সংগঠন ‘গণবিপ্লবী উদ্যোগ’। অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত জন-আকাঙ্ক্ষা পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ার প্রতিবাদে এবং অসমাপ্ত বৈপ্লবিক রূপান্তরের লক্ষ্যে দলটি এই কর্মসূচি পালন করে।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সংগঠনটির প্রতিনিধি মোহাম্মদ মাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণজাগরণ বৈপ্লবিক রূপান্তরের পথ ধরে এগোনোর বদলে পুরোনো রাষ্ট্রযন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার মধ্য দিয়ে সীমিত হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতার চরিত্র অপরিবর্তিত রেখে কেবল ক্ষমতার হাতবদল ঘটেছে। গঠিত ১১টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে শ্রম, নারী, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার ও গণমাধ্যমসংক্রান্ত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কমিশনের সুপারিশ ‘ঐকমত্য কমিশনে’র আলোচনা থেকেই বাদ পড়েছে, যা সংস্কারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, অভ্যুত্থানকালে জনস্বার্থে পাস হওয়া কিছু অধ্যাদেশ পরবর্তী সময়ে বাতিল করা এবং গুম-নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্ত পুরোনো পুলিশ কাঠামোর হাতে রেখে দেওয়ার ঘটনা জন-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। এর প্রত্যক্ষ পরিণতি হিসেবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারীকরণ, গ্যাসের তীব্র সংকট, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার মতো তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করে তারা।
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং অভ্যুত্থানের মূল চেতনা বাস্তবায়নে গণবিপ্লবী উদ্যোগের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে:
-
বাদ পড়া শ্রম, নারী, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে এনে বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রকাশ করতে হবে।
-
অভ্যুত্থানকালে পাস করা বাতিলকৃত অধ্যাদেশের তালিকা ও এর যুক্তিসংগত কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
-
গুমসহ সব রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের তদন্ত পুলিশের পরিবর্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কাঠামোর হাতে ন্যস্ত করতে হবে।
-
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ওষুধ খাতের যেকোনো বেসরকারীকরণ বা মালিকানা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে।
-
জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল করে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে সব ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে ৮ আগস্টের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জনমুখী রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।