রাজধানীর ১২০ মোড়ে বসছে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল

আপলোড সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০১:২০:৩৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০১:২০:৩৫ অপরাহ্ন

রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন আনতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ‘সেমি-অটোমেটিক’ (আধা স্বয়ংক্রিয়) ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এর পাশাপাশি যানজট কমাতে গত এক বছরে শহরের ৭৫টি স্থানে সড়কের ডাইভারশন (গতিপথ পরিবর্তন) ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।
 

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। তিনি জানান, ভবিষ্যতে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারিসহ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, রাজধানীতে পর্যায়ক্রমে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে ১২টি পয়েন্টে এ ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এই সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে ট্রাফিক বিভাগ। পরবর্তী ছয় মাসে প্রধান ১২০টি পয়েন্টকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
 

উন্নত দেশগুলোর মতো পুরোপুরি অটোমেটিক সিস্টেমে না যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, উন্নত দেশের সড়কগুলো অত্যন্ত পরিকল্পিত। কোথায় কত ডিগ্রি কোণে বাঁক থাকবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত। কিন্তু বাংলাদেশের সড়কব্যবস্থা সেভাবে গড়ে ওঠেনি। তাই পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এখনই প্রয়োগ করা কঠিন। বর্তমান সেমি-অটোমেটিক ব্যবস্থায় প্রয়োজন অনুযায়ী সিগন্যালের সময় ম্যানুয়ালি পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, সীমিত জনবল দিয়েই রাজধানীর যানজট কমাতে গত এক বছরে ৭৫টি পয়েন্টে ডাইভারশন ও বিভিন্ন কাঠামোগত পরিবর্তন (মডিফিকেশন) করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে আসাদ গেট, মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানীর কাকলী, মিরপুরের ইসিবি চত্বর ও কালশী ফ্লাইওভারের নিচের মোড়ের কথা উল্লেখ করেন আনিছুর রহমান।
 

আসাদ গেট এলাকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে সরাসরি চলাচল বন্ধ করে কিছুটা দূরে ইউটার্নের ব্যবস্থা করায় যানজট কমেছে এবং ওই জংশন পরিচালনায় আটজন ট্রাফিক সদস্য কমানো সম্ভব হয়েছে।
 

বর্তমানে ডিএমপি ট্রাফিকে প্রায় ৪ হাজার ১০০ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তবে ছুটি, প্রশিক্ষণ ও অসুস্থতার কারণে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ সদস্যকে রাজধানীর ৬৬৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর মধ্যে ২৫টি পয়েন্টে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা (তিন পালায়) ডিউটি চলে। জনবলের এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোই একমাত্র টেকসই সমাধান বলে মনে করে ডিএমপি।
 

রাজধানীর যানজট নিরসনে শুধু ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা। তিনি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
 

আনিছুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছাড়াই রাতারাতি রাস্তা কেটে উন্নয়নকাজ শুরু করা হয়। সংস্থাগুলো ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে আগাম যোগাযোগও করে না। আবার কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় ট্রাফিক সিগন্যালের কেবল (তার) কেটে ফেলায় পুরো সিগন্যাল ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ এর বাইরে ভারী বৃষ্টিপাতে সড়ক অচল হয়ে যাওয়া এবং সড়কে মিছিল-সমাবেশের কারণে সৃষ্ট যানজটও বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
ইমেইল : [email protected]