চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বসতবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির সাপের উপদ্রব বেড়েছে। সাপগুলো বসতঘর, উঠান, রান্নাঘর, গোয়ালঘর ও স্যাঁতসেঁতে স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, আজ শনিবার (১৮ জুলাই) পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জনকে সাপে দংশন করেছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত সাপের কামড়ে ২২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে তাঁরা সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার বসতঘরে পানি ঢোকে। এতে ১৩ হাজারের বেশি মাটির ঘর ধসে পড়ে এবং কয়েক হাজার টিন ও ছনের তৈরি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানি নেমে যাওয়ার পর এসব ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়েই বিষধর ও নির্বিষ বিভিন্ন প্রজাতির সাপের দংশনের শিকার হচ্ছেন মানুষ।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার বলেন, সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত যেসব রোগী হাসপাতালে এসেছেন, তাঁদের কারও অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, ‘কেউ সাপের দংশনে আক্রান্ত হলে ওঝার কাছে গিয়ে ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে আসতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।’
