আর্জেন্টিনার ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি সব সময়ই জনসমক্ষে সংযত ভাবমূর্তি বজায় রেখেছেন। রাজনীতি নিয়ে খুব কমই মন্তব্য করেছেন এবং বড় কোনো বিতর্কেও সচরাচর জড়াননি তিনি। তবে ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা বিভিন্ন সময় ইহুদি উদ্যোগ এবং ইসরায়েলি কোম্পানির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন।
চলতি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচ ঘিরে ইসরায়েলবিরোধী কিছু গোষ্ঠী মেসির অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে সমালোচনা করছে। অন্যদিকে অনেক ইসরায়েলি আর্জেন্টিনা ও মেসিকে সমর্থন জুগিয়েছেন।
ম্যাচের আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’ মেসির ক্যারিয়ারের এমন ১০টি ঘটনা তুলে ধরে, যেখানে তিনি বা তাঁর জনপ্রিয়তা কোনো না কোনোভাবে ইহুদি ও ইসরায়েলি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে:
ম্যাকাবিয়া গেমস (২০১৩):
ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত ম্যাকাবিয়া গেমসে অংশ নিতে যাওয়া আর্জেন্টিনার দলের উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান মেসি। এই প্রতিযোগিতাকে অনেকেই ‘ইহুদিদের অলিম্পিক’ বলে থাকেন। এর আগে ২০১১ সালেও বুয়েনস এইরেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে পরিচালিত এক প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
ওয়েস্টার্ন ওয়াল সফর (২০১৩): তৎকালীন ক্লাব বার্সেলোনার সাথে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সফরে যান মেসি। সেখানে জেরুজালেমে ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ পরিদর্শন করে দেয়ালের ফাঁকে নিজের প্রার্থনাপত্র গুঁজে দেন তিনি।
শান্তির ম্যাচ (২০১৪): পোপ ফ্রান্সিসের উদ্যোগে রোমে আয়োজিত ‘ম্যাচ ফর পিস’-কে সমর্থন জানান মেসি। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা দিতে এই ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল।
অনাকাঙ্ক্ষিত দান (২০১৬): মিসরের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে নিজের এক জোড়া ফুটবল বুট দান করার পর সেখানকার কিছু কর্মকর্তা মেসিকে ‘ইহুদি’ ও ‘জায়নিস্ট’ বলে তীব্র সমালোচনা করেন।
বিডিএসের চাপে ম্যাচ বাতিল (২০১৮):
বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস (বিডিএস) আন্দোলনের চাপের মুখে ইসরায়েলের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ বাতিল করে আর্জেন্টিনা। বুয়েনস এইরেসে ইসরায়েলি দূতাবাস জানায়, মেসিকে হুমকি দেওয়ার কারণেই ম্যাচটি বাতিল করা হয়।
জার্সি পোড়ানোর হুমকি (২০১৮):
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন প্রধান জিবরিল রাজুব সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছিলেন, মেসি বা আর্জেন্টিনা ইসরায়েলে খেলতে এলে তাঁর ছবি ও জার্সি যেন পুড়িয়ে ফেলা হয়।
তেলআবিবে প্রীতি ম্যাচ (২০১৯):
বিডিএস আন্দোলনের তীব্র বিরোধিতা ও বার্সেলোনায় বিক্ষোভ সত্ত্বেও তেলআবিবে উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনা এবং সেই ম্যাচে মেসি গোলও পান। পরবর্তীতে পিএসজির হয়েও তিনি ইসরায়েলে খেলতে যান।
ইসরায়েলি কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর:
২০১৭ সালে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘সিরিন ল্যাবস’ এবং ২০২০ সালে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান ‘অরক্যাম’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেন মেসি।
প্রাণ বাঁচাতে মেসির নাম (২০২৩): ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় এসথার কুনিও নামের ৯০ বছর বয়সী এক নারী বন্দুকধারীর সামনে মেসির নাম উল্লেখ করে ও নিজেকে আর্জেন্টিনার মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পান।
ইহুদি লবির অভিযোগ ও হিব্রু শিক্ষা:
সম্প্রতি আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের পর এক আলজেরীয় বিশ্লেষক দাবি করেন, মেসির পেছনে ‘ইহুদি লবি’ কাজ করছে। এছাড়া ২০২০ সালে ওয়ার্ল্ড জায়নিস্ট অর্গানাইজেশন হিব্রু ভাষা শেখানোর একটি ভিডিওতে মেসির নাম ব্যবহার করে শব্দের খেলা তৈরি করেছিল।
