হরমুজ প্রণালিতে একটি কনটেইনার জাহাজে হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আজ রোববার (১২ জুলাই) এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি বলছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজকে ওই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।
আইআরজিসির দাবি, কয়েকটি জাহাজ অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল এবং তারা সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। ফলে বাধ্য হয়ে গুলি করে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির নাম এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি। সাইপ্রাসের পতাকাবাহী এই কনটেইনার জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তবে তিনি কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে ইরানের এই অবরোধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে একটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট