ফরিদপুরের সালথায় ঘরে নতুন বউ রেখে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মো. শোয়াইব বিশ্বাস (২৩) নামের এক প্রবাসী যুবক। গত শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে মালয়েশিয়ায় কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভগ্নিপতি মো. তুহিন হাসান।
নিহত শোয়াইব ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের মো. শওকত বিশ্বাসের ছেলে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজো।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালে প্রথম মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যান শোয়াইব। সেখানে একটি কোম্পানিতে দীর্ঘ দিন কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ছুটিতে বাড়িতে আসেন তিনি। বাড়িতে আসার পর গত দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। ছুটি শেষে গত ১ জুলাই তিনি আবারও মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। দেশটির জহুরবারু এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির অধীনে বুম ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ শুরু করেন তিনি। শুক্রবার সকালে কাজ করার সময় হঠাৎ ক্রেনচাপায় ঘটনাস্থলেই তাঁর নির্মম মৃত্যু হয়।
এদিকে শোয়াইবের মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্রুত লাশ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি। নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে মালয়েশিয়ার ওই কোম্পানির দায়িত্বরত এক বাংলাদেশি কর্মকর্তা আমাকে ফোন করে শোয়াইবের মৃত্যুর বিষয়টি জানান। কোম্পানির পক্ষ থেকে মরদেহ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। তবে আমাদের দাবি, মরদেহটি যেন দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এ জন্য আমরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করছি।’
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, ‘নিহত কর্মী কোনো কোম্পানির অধীনে কর্মরত থাকলে সাধারণত তারাই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করে থাকে। তবে কোম্পানি থেকে কোনো সহযোগিতা না পেলে নিহতের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেব।’ তিনি আরও জানান, শোয়াইব যদি বৈধ কর্মী হয়ে থাকেন, তবে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
