জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) থাকা দেশের কোটি কোটি নাগরিকের তথ্য চুরির ঘটনায় প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলসহ (বিসিসি) বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সংরক্ষিত এসব তথ্য চুরির বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে গতকাল বৃহস্পতিবার এই চিঠি পাঠানো হয় বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, দেশে বর্তমানে ১২ কোটির বেশি ভোটারের মধ্যে অন্তত ১১ কোটি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়েছে। সূত্রমতে, ২০২২ সালের অক্টোবরে নাগরিক তথ্য সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের তথ্য অন্য কারও সঙ্গে বিনিময় বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
তবে দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে, ১১ কোটি নাগরিকের তথ্যের একটি ‘মিরর কপি’ বিসিসিকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ‘ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান নাগরিকদের ৪৬ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য দেশ-বিদেশের ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়।
এই অবৈধ তথ্য বিক্রির রহস্য উদ্ঘাটনেই নথিপত্র চেয়ে বিসিসি, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে দুদক। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরির ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাজধানীর কাফরুল থানায় জয়, পলকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভোটার তথ্যভান্ডারটি নির্বাচন কমিশন থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ লক্ষ্যে তখন আইনও সংশোধন করা হয়। তবে ‘জুলাই বিপ্লব’-এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারালে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হতে পারেনি।

ডেস্ক রিপোর্ট