লালমনিরহাটে মাদক ও জুয়া খেলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামিদের কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে আদালত চত্বরে অবস্থিত সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কে এম হুমায়ুন রেজা স্বপন। তিনি জানান, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় লালমনিরহাটে মাদকের আগ্রাসনে মারাত্মক সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে মন্ত্রী নিজে ও তাঁর কমিটির সদস্যরা বেশ কয়েকজন মাদকসেবীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করেছেন।
মন্ত্রীর ওই সামাজিক আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে হুমায়ুন রেজা বলেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে আগামী এক মাস মাদক ও জুয়া আইনে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে দেন, এই ঘোষণা কোনো আইনজীবী অমান্য করলে সমিতির নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ তাঁকেও ‘মাদকসেবী’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সমিতির সভাপতি স্পষ্ট করে বলেন, এই সিদ্ধান্তে আইনজীবী সমিতিতে বিএনপি বা আওয়ামীপন্থী বলে কোনো বিভেদ নেই। সমিতির সব সদস্য মিলে একমত হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সবাই তা মেনে চলবেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে আইনি সহায়তা না দেওয়ার এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘আইনজীবীরা সহায়তা না করলে আসামিদের জামিন পাওয়ার হার কমে যাবে। তারা হাজতবাস করলে অপরাধবোধ থেকে মাদককে না বলতে শিখবে। মূলত সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই অবক্ষয় থেকে সমাজকে রক্ষা করতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তবে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা চাইলে আইনজীবী ছাড়া নিজেরাই নিজেদের পক্ষে আইনি লড়াই করতে পারবেন এবং সে ক্ষেত্রে সমিতি কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলেও নিশ্চিত করেছে আইনজীবী সমিতি।

ডেস্ক রিপোর্ট