পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশ কর্মকর্তার সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতেই প্রাণ হারান তিনি। আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকালে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
বারুইপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ঘটনার তদন্ত ও দৃশ্য পুনর্নির্মাণের (ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশন) জন্য পুলিশি হেফাজতে থাকা প্রভাস মণ্ডলকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়। সেখানে গাড়ি থেকে নামানোর পরপরই তিনি আচমকা এক পুলিশ কর্মকর্তার রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালান এবং পালানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে তাঁকে সতর্ক করে। কিন্তু তিনি না থামায় পুলিশ বাধ্য হয়ে পাল্টা গুলি চালায়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নারী সুরক্ষা নিশ্চিতে উত্তরপ্রদেশের আদলে এই ‘এনকাউন্টারের’ ঘটনা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের আগে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘রেকর্ড করে রাখুন বিরোধী দলনেতার কথা, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই ধর্ষকদের কোর্টে পাঠাব না; সকালে জমা নেব, বিকেলে খরচ করব। যোগী আদিত্যনাথ ও হিমন্ত বিশ্বশর্মার দেখানো পথে সরকার চলবে।’ ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ঠিক তেমনই ‘অ্যাকশন’ দেখল পশ্চিমবঙ্গ। পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী গোটা ঘটনাটির ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সবার প্রথমে গ্রেপ্তার হওয়া প্রভাস পুলিশকে বারবার বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এমনকি ঘটনার দিন পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধারে তিনি নিজেও সহযোগিতা করেন। জেরায় তিনি দাবি করেছিলেন, মাত্র ১০ হাজার টাকার লোভে ওই কিশোরীকে তুলে এনেছিলেন তিনি। যৌন নির্যাতনের পর কিশোরীকে বস্তাবন্দী করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও জানা গেছে, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় শিশুটিকে পানিতে ফেলার কারণে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে এই মামলার চতুর্থ অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত রোববার সকালে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই কিশোরীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার হয়। এরপরই দোষীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির মৃত্যুও ঘটে। পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ওই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং সহিংসতার অভিযোগে এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে প্রশাসন। ভিডিও ফুটেজ দেখে বাকিদেরও চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট