হলদে-সবুজ জার্সিতে আর দেখা যাবে না তাঁকে। নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ-স্বপ্ন চূর্ণ হওয়ার পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন সেলেসাওদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র।
সোমবার (৬ জুলাই) শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে অবসরের ঘোষণা দেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড। অশ্রুসিক্ত নেইমার বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখানেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেন তিনি। এই গোলের মধ্য দিয়ে কিংবদন্তি পেলের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৯-এ। তবে ব্যক্তিগত এই অর্জন দলের বিদায় ঠেকাতে পারেনি।
চোটের কারণে এবারের বিশ্বকাপের আগে নেইমারের ফিটনেস নিয়ে প্রবল শঙ্কা ছিল। তারপরও প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁকে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে রেখেছিলেন। তবে পুরো টুর্নামেন্টে চেনা ছন্দে দেখা যায়নি তাঁকে। ফিটনেস ঘাটতির কারণে কোনো ম্যাচেই পূর্ণ এক অর্ধ খেলতে পারেননি এই মহাতারকা।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০ গোল ও ৫৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপ জয় এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো ফুটবলের সোনা জয়।
অন্যদিকে, নরওয়ের কাছে এই হারের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের ইউরোপ-অভিশাপ আরও দীর্ঘ হলো। ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর নকআউট পর্বে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে আর জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা।
ম্যাচ শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল তাঁর। তবু এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিল ফুটবলে অসাধারণ সব পারফরম্যান্স এবং রেকর্ডের জন্য ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবেই ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট