যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। সাত দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক শোক ও দাফন প্রক্রিয়ার তৃতীয় দিন রোববার (৫ জুলাই) সকালে তেহরানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে আমার দেশ অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতার প্রধান হাসান হাসানজাদেহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খামেনির জানাজা উপলক্ষে রোববার পুরো ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৮৬ বছর বয়সি খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে একই হামলায় আহত হওয়া মোজতবাকে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এমনকি নিরাপত্তার কারণে ও ইসরাইলের হুমকির মুখে তিনি বাবার জানাজায়ও উপস্থিত থাকেননি।
খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর এটিই ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগম। জানাজায় অংশ নেওয়া লাখো মানুষ কালো পোশাক পরে এবং প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে রক্তলাল পতাকা হাতে ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ ও ‘প্রতিশোধ’ স্লোগান দেন।
রোববার সন্ধ্যায় খামেনির মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে স্থানান্তর করা হবে এবং সোমবার রাজধানী তেহরানে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার পবিত্র কোম নগরী এবং বুধবার প্রতিবেশী দেশ ইরাকে কফিন নেওয়া হবে। সব শেষে আগামী বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে তাকে সমাহিত করা হবে।
এর আগে গত মার্চ মাসে খামেনিকে দাফন করার পরিকল্পনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিচুক্তির আলোচনার পথ ধরে এই বিশাল শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইরান।

ডেস্ক রিপোর্ট