যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠান তেহরানে শুরু হয়েছে। আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এই শোকযাত্রায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে এতদিন দাফন স্থগিত থাকলেও, যুদ্ধবিরতির পর গতকাল শুক্রবার থেকে সাত দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠান শুরু হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই আয়োজন আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম পাবলিক জানাজা হতে যাচ্ছে। এটি ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় প্রায় এক কোটি মানুষের অংশগ্রহণের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিশাল এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। তিনি ইতোমধ্যে তেহরানে শোকানুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।
এছাড়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এই জানাজায় অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারপারসন হে উই এবং ভারতের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মারঘেরিটা নিজ নিজ দেশের হয়ে যোগ দিয়েছেন। ভারতের প্রতিনিধিদলে সে দেশের বিরোধীদলীয় নেতা সালমান খুরশিদ ও মেহবুবা মুফতিও রয়েছেন।
পাশাপাশি আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানসহ একাধিক দেশের শীর্ষ নেতারা তেহরানে অবস্থান করছেন।
তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই জানাজায় অংশ নিচ্ছেন না খামেনির ছেলে ও ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সম্প্রতি ইসরায়েলের দিক থেকে তাঁকে হত্যার হুমকির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে শোকানুষ্ঠান চলাকালে কোনো ধরনের হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলী আব্দুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যেকোনো ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে বিরত থাকার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, শনি ও রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সোমবার ও মঙ্গলবার শোকযাত্রাটি কোমের দিকে যাবে। বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে খামেনিকে চূড়ান্তভাবে সমাহিত করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট