দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সারা দেশে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও অভিন্ন প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার কোনো পরীক্ষার্থী অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি করলেও যৌক্তিক বিবেচনায় তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান। একইসঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোনো এলাকায় পরীক্ষা বাধাগ্রস্ত হলে দেশজুড়েই তা স্থগিতের কথা জানিয়েছে বোর্ড।
নকল ও অনিয়ম রোধে এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকছে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তায় বডি ক্যামসহ পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
তবে পরীক্ষাকেন্দ্রে পুলিশের বডি ক্যাম নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান, বডি ক্যাম নিয়ে আগে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় তাদের মধ্যে কিছুটা নার্ভাসনেস কাজ করছে। তবে তারা আশা করছেন, বোর্ড এবার মাত্রাতিরিক্ত কঠিন বা সহজ প্রশ্নের বদলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রশ্নপত্র তৈরি করবে।
অন্যদিকে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের বিষয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান শহরের ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধার পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘একই স্ট্যান্ডার্ডের প্রশ্ন হওয়াটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু মফস্বলের শিক্ষার্থীরা শহরের মতো ল্যাব ও মানসম্মত শিক্ষকের সুবিধা পেয়েছে কি না, সেটি খেয়াল রাখতে হবে; যাতে কেউ বঞ্চিত না হয়।’
এদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত দেরি ও দুর্যোগের বিষয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, কোনো ব্যক্তি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দেরি করলে স্থানীয় প্রশাসন যৌক্তিক বিবেচনায় তাকে পরীক্ষা দেওয়ার স্পেস দিতে পারে।
এছাড়া কোনো একটি বিভাগে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে ওই দিনের পরীক্ষাটি স্থগিত করে নতুন তারিখে সারা দেশে পুনরায় আয়োজনের সিদ্ধান্তকে বোর্ড বেশি কার্যকর মনে করছে বলে জানান তিনি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশের ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজারের বেশি।

ডেস্ক রিপোর্ট