মৃত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের স্ত্রীদের জীবিত দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ টাকা ভাতা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সোনালী ব্যাংকের যশোরের ঝিকরগাছা শাখায় এই অভিনব জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৪ জুন) সোনালী ব্যাংক ও স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জালিয়াতির এই ভয়াবহ চিত্র সম্পর্কে জানা যায়।
অভিযোগের তির ব্যাংকটির কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের দিকে। তিনি মৃত ব্যক্তিদের নামের পাশাপাশি সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করেও ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর প্রমাণও মিলেছে। ফলে প্রকৃত অপরাধী পার পেলেও বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত হওয়াসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যাংকটির ২২ জন নিরীহ কর্মকর্তা।
জানা যায়, জালিয়াতির এই চক্র শুরু হয় মূলত ২০১৩ সালে। ওই সময় ঝিকরগাছার সাবেক প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তাঁর হিসাব থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা তুলে নেন অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর।
একই বছরের ডিসেম্বরে হাজিরবাগ এলাকার প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউর রহমান এবং গঙ্গানন্দপুর এলাকার মৃত মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলীর প্রয়াত স্ত্রী আমেনা খাতুনকে জীবিত দেখিয়ে অবৈধভাবে ভাতা তোলা শুরু করেন তিনি।
এভাবে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের পর ২০১৮ সালের জুন মাসে ধরা পড়েন এই কর্মকর্তা। তদন্তে বেরিয়ে আসে, মৃত ব্যক্তিদের স্বজনদের স্বাক্ষর জাল করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করা হয়েছে।
২০২০ ও ২০২১ সালের তদন্তে জাহাঙ্গীর দোষী সাব্যস্ত হলেও ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর একটি ডিও লেটারের মাধ্যমে নতুন করে তদন্ত শুরু করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, আমুর আত্মীয় এবং সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন এমডি আফজাল করিমের হস্তক্ষেপে উল্টো ২০ জন নিরীহ ব্যাংক কর্মকর্তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়।
মৃত আমেনা খাতুনের ছেলে আবু সামা জানান, পুরোনো চেকবই বাতিল করে নতুন বই নেওয়ার কথা বলে জাহাঙ্গীর তাঁদের পুরোনো হিসাবটি সচল রাখেন এবং সেখান থেকেই বছরের পর বছর টাকা হাতান।
অন্যদিকে, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউরের ভাগনে আব্দুল্লাহ পারভেজ জানান, মামার মৃত্যুর পর ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর তাঁকে ডেকে আত্মসাৎ করা ভাতার টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে তিনি তাতে রাজি হননি।
তবে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
সার্বিক বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের যশোরাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার ইকবাল কবীর জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিক তদন্ত চলমান থাকায় মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে এবং নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তাঁরা সচেষ্ট রয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট