চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়ার বা ‘পুশইন’ চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে তারা।
বুধবার (২৪ জুন) বিজিবি ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ১৬ দিনের ব্যবধানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অন্তত চার দফায় এই অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
অনুপ্রবেশ সফল করতে বিএসএফ নানা রকম কৌশল অবলম্বন করছে। বিশেষ করে নজরদারি এড়াতে গভীর রাত, ভোরবেলা কিংবা বৈরী আবহাওয়াকে তারা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
স্থলপথে কড়া পাহারার কারণে রুট পরিবর্তন করে নদীপথকেও বেছে নিচ্ছে বিএসএফ। অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় কিছু অসাধু মাঝি ও দালালের সহায়তায় রোকনপুর নদী সীমান্ত দিয়ে নৌকায় করে মানুষ পাঠানোর অপচেষ্টা চালানো হয়।
বিজিবির কঠোর অবস্থান শিথিল করতে বিএসএফের আরেকটি বড় কৌশল হলো অনুপ্রবেশকারীদের দলে নারী ও শিশুদের আধিক্য রাখা। মূলত বাংলাদেশের ওপর একধরনের মানবিক চাপ তৈরি করতেই এই ফাঁদ পাতা হয়।
এমনকি শূন্যরেখায় বাধা পেয়ে বিএসএফ বিভিন্ন পোস্টে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে শক্তি প্রদর্শনেরও চেষ্টা করেছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের অনড় অবস্থানের কারণে তাদের এসব মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হালে পানি পায়নি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৪ জুন ভোররাতে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। শূন্যরেখায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর বিজিবি ও জনতার বাধায় পরদিন তাদের ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।
একইভাবে ১২ জুন রাতে রোকনপুর নদীপথে ১৫ জন এবং ১৫ জুন রাতে নৌকাযোগে এক নারীকে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় রক্ষীরা। সবশেষ গত ২০ জুন ভোরে শিবগঞ্জের চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে লাঠিসোঁটা হাতে রুখে দাঁড়ায় গ্রামবাসী।
এদিকে, ১৫ জুনের অনুপ্রবেশের ঘটনায় সহায়তার অভিযোগে পুলিশ ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে স্থানীয় চার দালালসহ সাতজনকে আটক করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সীমান্ত দিয়ে কোনোভাবেই পুশইন হতে দেওয়া হবে না। বিএসএফের যেকোনো কৌশল নস্যাৎ করতে বিজিবি পেশাদারত্বের সঙ্গে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, তাদের আওতাধীন এলাকায় তিনবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। তবে বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে বিএসএফের প্রতিটি চেষ্টাই সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট