গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে এক ছাত্রশিবির নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত ওই যুবদল নেতাকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটি।
রোববার (২১ জুন) রাতে গাইবান্ধা জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এর আগে একই দিন বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে হত্যাকাণ্ডের ওই ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই ছাত্রশিবির নেতার নাম সাইফুল্লাহ্ বারী। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমান মুকুল সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ছিলেন।
জেলা যুবদলের সভাপতি রাগিব হাসান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুট্টোর নির্দেশনায় ওই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মুকুলকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত এই নেতার কোনো ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়ভার সংগঠন নেবে না। পাশাপাশি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে যেকোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে বিকেলে বোনারপাড়া চৌরাস্তায় মুকুলের ছুরিকাঘাতে খুন হন শিবির নেতা সাইফুল্লাহ।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্কুল কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছে।

ডেস্ক রিপোর্ট