কাতারপ্রবাসী ও দেশটিতে ঘুরতে যাওয়া দর্শনার্থীদের জন্য রেসিডেন্সি এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়মে রেসিডেন্সি পারমিট বা আকামা বাতিলের পর প্রবাসীদের দেশটিতে বৈধভাবে অবস্থানের সময়সীমা বা গ্রেস পিরিয়ড অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে কাতারের নতুন এই নির্দেশনার বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ আয়োজিত ‘নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এই কড়াকড়ির ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওয়েবিনারে এয়ারপোর্ট পাসপোর্ট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ জানান, আগে আকামা বাতিলের পর প্রবাসীরা ৩০ দিন পর্যন্ত কাতারে অবস্থানের সুযোগ পেতেন। কিন্তু বর্তমানে সেটি কমিয়ে মাত্র ১৪ দিন অর্থাৎ দুই সপ্তাহ করা হয়েছে।
সংশোধিত এই নিয়ম অনুযায়ী, আকামা বাতিলের পর নির্ধারিত ১৪ দিনের মধ্যে কেউ কাতার ত্যাগ না করলে তাকে জরিমানার মুখে পড়তে হবে। অতিরিক্ত প্রতি দিনের জন্য ১০ কাতারি রিয়াল করে বিলম্ব ফি গুনতে হবে প্রবাসীদের।
প্রবাসীদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্যও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে কাতার প্রশাসন। পর্যটকদের তাদের পাসপোর্টে থাকা ভিসা স্ট্যাম্পের মেয়াদ এবং অবস্থানের নির্দিষ্ট সময়সীমা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করতে বলা হয়েছে।
ভিজিট ভিসার মেয়াদ পার হওয়ার পর কেউ যদি অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করেন, তবে তার জন্য শাস্তির বিধান আরও কঠোর। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিনের জন্য ২০০ কাতারি রিয়াল হারে বড় অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হবে।
যাতায়াতের সময় বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়াতে প্রবাসীদের ‘মেট্রাশ’ (Metrash) মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কাতার ছাড়ার আগে এই অ্যাপের মাধ্যমে নিজের বর্তমান আইনি অবস্থা ও কোনো ট্রাফিক বা সরকারি জরিমানা বকেয়া আছে কি না, তা যাচাই করে আগেই পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীরা চাইলে এই অ্যাপটি ব্যবহার করে সহজেই নতুন পাসপোর্টে নিজেদের আকামা স্থানান্তরের কাজও সারতে পারবেন। এছাড়া হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের দীর্ঘ লাইন এড়াতে সেখানকার ৭৬টি ই-গেট (E-gate) ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কাতারে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টিও মনে করিয়ে দিয়েছেন ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ। তিনি জানান, নবজাতকের জন্মের পর অবশ্যই পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
পরবর্তীতে নিজ দেশের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। এরপর শিশুটিকে তার বাবার স্পনসরশিপের অধীনে কাতারের রেসিডেন্সি পারমিটের আওতাভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

ডেস্ক রিপোর্ট