জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের কারণে শূন্যরেখায় আটকে থাকা সেই বৃদ্ধের পরিচয় পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে রাজশাহীর একটি পরিবার। ওই বৃদ্ধের নাম ষষ্ঠী চন্দ্র বলে জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা যায়। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বকশীগঞ্জের কামালপুর সীমান্ত থেকে তাকে উদ্ধার করে বিজিবি।
জানা গেছে, সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের কাছের শূন্যরেখা থেকে ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়। পরে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য তাকে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়।
এদিকে, সীমান্তে ওই বৃদ্ধের আটকে থাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাজশাহীর একটি পরিবারের নজরে আসে। ভিডিও দেখেই তারা বৃদ্ধকে নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করেন।
পরিবারের দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধের নাম ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন। তিনি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁন্দলাই গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া ষষ্ঠী চন্দ্রের বাবার নাম বাবু চন্দ্র বর্মন এবং মায়ের নাম কমলা রানী।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বর্তমানে তারা ওই বৃদ্ধকে নিজেদের জিম্মায় নিতে জামালপুরের বকশীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তবে মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন এই বৃদ্ধ কীভাবে রাজশাহী থেকে শত শত মাইল দূরের জামালপুর সীমান্তে পৌঁছালেন এবং ভারতে প্রবেশ করলেন, তা নিয়ে এক ধরনের রহস্য তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধকে বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট