মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এই দেহাবশেষ তুলে নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত করা হবে।
বুধবার (৯ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালত থেকে এমন অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ জানান, হত্যার আসল কারণ বের করতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহাবশেষ উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছিল। আদালতের অনুমতি মেলায় কিছু দাপ্তরিক কাজ শেষে দ্রুতই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আবেদনে সিআইডি উল্লেখ করে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান তার মা নীলা চৌধুরীসহ পরিবারের সদস্যরা। তবে সালমানের স্ত্রী সামীরা ও কর্মচারীরা সেসময় জানান যে তিনি ঘুমাচ্ছেন।
পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই বাসা থেকে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের দ্রুত আসতে বলা হয়। তারা গিয়ে দেখেন, শয়নকক্ষে খাটের ওপর সালমান শাহর নিথর দেহ পড়ে আছে।
দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর প্রথম ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটের হজরত শাহজালাল (র.) মাজার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয় এবং রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়।
তবে দীর্ঘদিন পর গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। ওই মামলায় সালমানের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাত অনেককে আসামি করা হয়।
এর আগে গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার একটি আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে বিষয়টিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট