চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মাণ হতে যাচ্ছে 'চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল'। এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং বিপুল বিদেশি বিনিয়োগের আশা জাগানো মেগা এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তোলা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ বাতিল হওয়ার পর নতুন এই চীনা প্রকল্পের উদ্যোগ সামনে এলো। গত ফেব্রুয়ারিতে ৯১৯ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পটি বাতিল করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে প্রায় ৮০০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠবে নতুন এই চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল। এর মাধ্যমে দেশে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশাল এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা জোগান দেবে।
বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে অর্থায়ন করবে চীন সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে খোদ পরিকল্পনা কমিশন। সংস্থাটির মতে, পুরো প্রকল্পে অন্তত ১৩৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যয়ের খসড়া অনুযায়ী, ৩৩০ মিটার সেতুসহ ১০ মিটার চওড়া ১ হাজার ২৩৫ মিটার রাস্তা নির্মাণে ২২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এখানে প্রতি মিটার রাস্তা নির্মাণেই খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা!
এ ছাড়া ২৪ মিটার প্রস্থের আরও ১ হাজার ১৮১ মিটার রাস্তা নির্মাণে প্রতি মিটারে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এর বাইরে কেবল দুটি পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণেই খরচ দেখানো হয়েছে ১১৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
ব্যয়ের এই অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত অঙ্ক নিয়েই মূলত আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

ডেস্ক রিপোর্ট