প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। নিজের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো সরকারপ্রধানের এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২১ জুন কুয়ালালামপুরে পা রাখবেন তিনি।
মালয়েশিয়া সফর শেষে সেখান থেকেই চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। আগামী ২৩ জুন তিনি চীনে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে।
প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারিতে দলটির সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোথায় হবে, তা নিয়ে গত তিন মাস ধরেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছিল।
এর আগে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত ও চীন সফর করে এসেছেন। তবে সরকারপ্রধানের প্রথম গন্তব্য কোথায় হতে পারে, সে বিষয়ে এতদিন আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে প্রথম গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি ঢাকার একটি অত্যন্ত সুচিন্তিত ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।
বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রথম সফরেই কোনো পরাশক্তির দেশে না গিয়ে মালয়েশিয়ার মতো একটি ‘মধ্যম শক্তির’ দেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়াটা কৌশলগতভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে ঢাকা যেকোনো অপ্রয়োজনীয় ভূ-রাজনৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির পথে হাঁটার সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক কূটনীতিক জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। প্রথম সফর হিসেবে এমন একটি দেশকে বেছে নেওয়াটা বিচক্ষণতার প্রমাণ, যা বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির অগ্রাধিকারকেই স্পষ্ট করে।

ডেস্ক রিপোর্ট