নেত্রকোনা সদর উপজেলায় একটি বিয়েবাড়িতে সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজানো ও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় মোস্তফা আমীর ফয়সাল নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন।
মঙ্গলবার (২ জুন) নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার সংবাদমাধ্যমের কাছে এ হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বামনীকোনা গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোস্তফা আমীর ফয়সাল (২০) বামনীকোনা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি নেত্রকোনা আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ওই গ্রামের ইদ্রিস আলীর মেয়ে শাবানার বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। রাত আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে ওই অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজানো হচ্ছিল।
এ সময় একই গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে মাসুম (১৯) তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে বিয়েবাড়িতে গিয়ে নাচ-গান শুরু করেন। একপর্যায়ে ফয়সাল তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বললে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
বাগবিতণ্ডার পর মাসুম তখন সেখান থেকে চলে গেলেও কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফিরে আসেন। এরপর তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ফয়সাল ও তার স্বজনদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
হামলায় ফয়সালের পাশাপাশি তার চাচাতো ভাই রবিন হাসান (১৯), আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (১৮) এবং চাচা সাদেকুল ইসলাম (৪৫) গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ফয়সাল ও সাদেকুল ইসলামের অবস্থার অবনতি হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কলেজছাত্র ফয়সাল।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বজল কুমার সরকার বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট