হোটেলের বকেয়া বিল চাওয়ায় মালিককে হত্যার হুমকি ও উল্টো চাঁদা দাবির অভিযোগে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের এক যুবদল নেতা এবং তার দুই সহযোগীকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামির নাম মেহেদী হাসান ওরফে সাহস (৩০)। তিনি দুর্গাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পৌরসভার পশ্চিম মোক্তারপাড়া এলাকার মঞ্জুরুল হকের ছেলে।
তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুই সহযোগী হলেন বাগিচাপাড়া এলাকার রাসেল মিয়া (৩০) এবং সাধুপাড়া এলাকার মো. মেহেদী (২৮)।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই হত্যাসহ বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দুর্গাপুরের নাজিরপুর মোড়ে ‘ভাই ভাই অ্যান্ড জনতা হোটেলে’ সহযোগীদের নিয়ে নিয়মিত বাকিতে খাবার খেতেন।
গত ৪ এপ্রিল রাতে ওই হোটেলে খাবার খেয়ে মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন মেহেদী। খবর পেয়ে পুলিশ এলে তিনি পালিয়ে যান এবং পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আবারও বাকিতে খাওয়া শুরু করেন।
সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল রাতে প্রায় ১৫ জন সহযোগী নিয়ে মেহেদী ওই হোটেলে খেতে যান। খাওয়া শেষে হোটেল কর্তৃপক্ষ আগের বকেয়া মিলিয়ে মোট এক লাখ টাকা বিল দাবি করে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেহেদী হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই সঙ্গে তিনি উল্টো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে পুলিশকে জানাতেও নিষেধ করেন।
ভয়ে হোটেল মালিক খোকন মিয়া তিন দিন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন। পরে দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মেহেদী হাসানসহ আটজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
হোটেল মালিক খোকন মিয়া বলেন, বকেয়া এক লাখ টাকা চাইতে গেলেই মেহেদী তাকে হত্যার হুমকি দিতেন। ব্যবসা করতে হলে তাকে উল্টো চাঁদা দিতে হবে বলে জানাতেন। তার অত্যাচারে এলাকার মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট