আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা বা জোট ভেঙে যাওয়ার নেপথ্য কারণগুলো স্পষ্ট করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। একই সঙ্গে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে দলের মেয়র প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করেছেন তিনি।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চরমোনাই পীর বলেন, সমঝোতায় নতুন দলের অন্তর্ভুক্তি ও আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে আগের শরিকদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি জামায়াত। তারা সম্পূর্ণ এককভাবে এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জোট ভাঙার আরও কিছু কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত ও আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে তারা। এছাড়া ইসলামি নীতি বাদ দিয়ে বিদ্যমান আইনেই দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার করেছে দলটি।
সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিনিদের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ‘উগ্রবাদী’ দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জামায়াত। এরপরও জোট টিকিয়ে রাখার অনেক চেষ্টা করা হলেও তা আর সম্ভব হয়নি।
সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, “শুধু এমপি ও মন্ত্রিত্বের লোভে আমরা রাজনীতি করি না। ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষে আমরা সবসময় অটল থাকব।”
ভবিষ্যতেও এসব আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে নতুন কোনো জোট হতে পারে বলে মতবিনিময় সভায় ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে বর্তমান সরকারের ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার ওপর ইসলামী আন্দোলন আস্থা রাখতে চায়।
তবে এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘গোলামির চুক্তি’ বলে আখ্যা দেন তিনি। অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিলের জোর দাবি জানান দলের আমির।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, বিজেপি সেখানে যা করছে, তা কোনো সভ্য দেশের কাজ হতে পারে না। ভারতকে অবিলম্বে এই বর্বরতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট