রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও মানুষের আয় বাড়ছে না। এর ফলে দেশের বহু পরিবারে মারাত্মক খাদ্য ও পুষ্টি সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৭ মে) সংবাদমাধ্যম চ্যানেল আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে রাজধানীতে আয়োজিত ‘জনবাজেট সংসদ’ শীর্ষক ওই আলোচনায় অংশ নেন বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আলোচনায় বক্তারা খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারকে বাড়তি নজর দেওয়ার তাগিদ দেন। একইসঙ্গে দরিদ্র মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা তদারকির দাবি জানান তারা।
‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’-এর তথ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া সরকারি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়, এক বছরের ব্যবধানে দেশে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। একদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, অন্যদিকে উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষ পুষ্টিকর খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে ঋণগ্রস্ত কৃষকদের করুণ পরিণতির কথাও উঠে আসে। বক্তারা জানান, সম্প্রতি এক কৃষক ১৯টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। এসব ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো সমন্বয় না থাকায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে।
উৎপাদন খরচের টাকা তুলতে না পেরে কৃষকদের রাস্তায় ফসল ফেলে দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, সার ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি হাওরের আকস্মিক বন্যার কারণে খাদ্যের কিছুটা সংকট ও মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
এমন উচ্চ মূল্যস্ফীতির মাঝে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন আলোচকরা। তারা বলেন, কৃষকদের সরকারি সহায়তা না বাড়ালে সামনে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
এই জটিল বাস্তবতা মোকাবিলায় আগামী বাজেটে কর্মসংস্থান ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের জোর দাবি জানান বিশেষজ্ঞরা।

ডেস্ক রিপোর্ট