গাজা সিটিতে জোড়া বিমান হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক কমান্ডার ইজ আদ-দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম এই ‘পরিকল্পনাকারী’কে হত্যার কথা এক যৌথ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গাজা সিটির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘আল-মুতাজ’ নামের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে তিন দিক থেকে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ভবনটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। এ সময় বেসামরিক পোশাকে থাকা হামাস সদস্যরা গুরুতর আহত একজনকে উদ্ধার করে একটি গাড়িতে তুলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করেন।
কিন্তু ভবনটি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে যাওয়ার পরই গাড়িটিকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো ধারণা করছে, প্রথম হামলায় গুরুতর আহত হাদ্দাদকে ওই গাড়িতে করেই সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। দ্বিতীয় হামলায় গাড়িটিতে থাকা তিন ব্যক্তিই নিহত হন। ইসরায়েলের এক ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তাকর্মীও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে হাদ্দাদকে সফলভাবে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেড এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় হাজার হাজার ইসরায়েলি নাগরিক ও সেনাকে হত্যা এবং অপহরণের মূল কারিগর ছিলেন হাদ্দাদ। পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন চুক্তি অনুযায়ী হামাসকে নিরস্ত্র করার যে প্রস্তাব ছিল, সেটিও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। ৭ অক্টোবরের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
গত ১০ অক্টোবর গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েল নিয়মিতভাবেই উপত্যকাটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, হামাস চুক্তি ভেঙে পুনরায় নিজেদের পুলিশ বাহিনী ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এর ফলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন গাজার পুনর্গঠন ও শান্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে চরম অচলাবস্থার মুখে পড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ লোক নিহত ও ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপরই গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৪৪ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে কেবল যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরই নিহত হয়েছেন ৮৫৭ জন। সূত্র: বিবিসি

ডেস্ক রিপোর্ট