দিনাজপুর প্রতিনিধি ফিরোজ সরকার : ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরে নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। শিশুদের সৃজনশীল অংশগ্রহণ, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে জেলা প্রশাসন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টায় দিনাজপুর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। প্রতিযোগিতাটি তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়।
‘ক’ বিভাগে শিশু শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত বিষয় রাখা হয়।
‘খ’ বিভাগে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিষয় ছিল ‘শিশুদের জিয়াউর রহমান’।
‘গ’ বিভাগে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বিষয় ছিল ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস—জনতার রাজা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’।
জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের সৃজনশীলতা ও চিত্রকলার মাধ্যমে নির্ধারিত বিষয় ফুটিয়ে তোলে।
সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা পিপিএম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস. এম. হাবিবুল হাসান এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোকছেদ আলী মঙ্গোলিয়া।
এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোখলেছুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ গোলাম রসুল রাখি, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ আখতারুজ্জামান জুয়েল এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোঃ খালেকুজ্জামান বাবুসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ঘটনাপ্রবাহ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার পর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দিবসের কর্মসূচিতে যোগ হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন।
শিশুদের সৃজনশীল প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে আলোচনা, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বৃক্ষরোপণ—বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পালিত হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : নিজস্ব প্রতিবেদক
