আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বাণিজ্য ঘাটতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে ডলারের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। ডলারের দাম বেড়ে ১২৪ টাকা ছাড়িয়েছে, আর খোলাবাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১২৮ থেকে ১২৯ টাকায়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনের পরিসংখ্যানে এ পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে। বিপরীতে আমদানি ব্যয় ১৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৯ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। এতে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।
আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত খরচ। এই তিন মাসে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহনের শিপিং ও বিমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির আমদানির পরিমাণও কিছুটা বেশি থাকায় মোট ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাণিজ্য ঘাটতি সামাল দিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তা দিয়ে পুরো ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশে ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তবে একই সময়ে নিট বিদেশি সহায়তা ও নতুন ঋণপ্রাপ্তি কমেছে।
এর ফলে বৈদেশিক লেনদেনের সার্বিক ভারসাম্যে ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়। এই ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে রিজার্ভ কমার পাশাপাশি ডলারের সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।
ড. মাহফুজ কবীর জানান, একপর্যায়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হতে দেখা গেলেও বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে ১২৮ থেকে ১২৯ টাকা দিতে হচ্ছে। তাঁর মতে, বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই পরিস্থিতি।
তিনি আরও বলেন, রপ্তানি আয় মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ প্রভাবিত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। ওই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব ছিল।
তবে ৫ নভেম্বর রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ও ডলারের বাজার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট