ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ক্লাসে নেকাব পরে আসায় এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। নেকাব পরা ওই ছাত্রী তাঁকে আক্রমণ করতে পারেন—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) এ ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেন। পরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষকের নেওয়া ক্লাস পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার ক্লাসের শুরুতে ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তিনি নেকাব পরা এক ছাত্রীকে সামনে না বসে পেছনে বসতে বলেন। তিনি দাবি করেন, নেকাব পরা অবস্থায় ওই ছাত্রী তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলছেন এবং মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন। এ সময় সুমি আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানালে শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর তর্ক হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক জানতে চান, নেকাব পরা ওই ছাত্রী ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ নন, সেটি কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে।
ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে ওই ছাত্রী এবং পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে বেরিয়ে যান। শিক্ষার্থীরা জানান, এ সময় শিক্ষক তাঁদের চ্যালেঞ্জ করে গণমাধ্যমে বা উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করার কথাও বলেন। পরে সুমি আক্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষকের আচরণ এর আগেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছিল। তবে বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক অত্যন্ত আন্তরিক বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা মৌখিকভাবে বসেছি। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে তারা ক্লাসে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার সভার মাধ্যমে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
মাস্টার্সের ক্লাস থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিরত রাখা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা ওই শিক্ষকের সঙ্গে ক্লাস করতে চাচ্ছে না। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি, ওই শিক্ষকের মুখাপেক্ষী তাদের হতে হবে না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
