জীবন্ত মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, তা আলোর মাধ্যমে নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের বৈপ্লবিক প্রযুক্তি ‘অপটোজেনেটিক্স’ আবিষ্কারের জন্য এ বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। সুইডেনের স্টকহোমে নোবেল কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কার্ল ডাইসেরথ, জার্মানির হামবোল্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পিটার হেগেম্যান এবং ভুর্ৎসবুর্গ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গেয়র্গ নাগেলের নাম এই পুরস্কারের জন্য ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান পার সভেনিংসন বলেন, অপটোজেনেটিক্স এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে মস্তিষ্ককে এমনভাবে মানচিত্রায়িত করা সম্ভব হয়েছে, যা একসময় বিজ্ঞানীদের কাছে কেবল কল্পনাই ছিল। এই প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরি হয় একটি ক্ষুদ্র এককোষী সবুজ শৈবাল ক্ল্যামাইডোমোনাস নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে। পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল গবেষণার মাধ্যমে শৈবালের মধ্যে চ্যানেলরোডোপসিন নামের একটি বিশেষ প্রোটিন শনাক্ত করেন। নীল আলো পড়লে এই প্রোটিনের ভেতরে একটি চ্যানেল খুলে যায় এবং কোষে বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করে।
পরবর্তীতে ২০০৫ সালে কার্ল ডাইসেরথ ও তাঁর সহকর্মীরা শৈবাল থেকে পাওয়া এই আলোক-সংবেদনশীল জিন ইঁদুরের স্নায়ুকোষে প্রবেশ করাতে সক্ষম হন। ২০০৭ সালে ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তির সহায়তায় স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা জীবন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্কে আলো ব্যবহার করে নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেন তাঁরা। অপটোজেনেটিক্সের সাহায্যে গবেষকেরা এখন পারকিনসনস, আলঝেইমারস, বিষণ্নতা ও সিজোফ্রেনিয়ার মতো জটিল রোগের কার্যপ্রক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষের চোখের কোষকে পুনরায় আলো-সংবেদনশীল করে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও গবেষণা চলছে।
এবারের তিন নোবেলজয়ীর মধ্যে কার্ল ডাইসেরথ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়োইঞ্জিনিয়ারিং ও সাইকিয়াট্রির অধ্যাপক। অন্যদিকে পিটার হেগেম্যান বার্লিনের হামবোল্ট ইউনিভার্সিটিতে স্নায়ুবিজ্ঞানের সিনিয়র অধ্যাপক এবং গেয়র্গ নাগেল জার্মানির ভুর্ৎসবুর্গ ইউনিভার্সিটির মলিকুলার প্ল্যান্ট ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

ডেস্ক রিপোর্ট