সিগারেটের দাম ও কর বাড়ানোর পরও সরকারের প্রত্যাশিত রাজস্ব বাড়ছে না। উল্টো চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। দাম বৃদ্ধির পরও কেন এমন ঘাটতি তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা এ কথা বলেন।
‘মিডিয়া ওয়ার্কশপ অন টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি’ শীর্ষক এই কর্মশালায় সাংবাদিক, গবেষক ও তামাক নিয়ন্ত্রণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিপিআরসির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মোহাম্মদ ইহতেশাম হাসান। প্রবন্ধে বলা হয়, চলতি বাজেটে সিগারেটের চার স্তরের মূল্যকাঠামো অপরিবর্তিত রেখে দাম কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর দেখা যায়, গত আগস্ট পর্যন্ত অধিকাংশ স্তরের সিগারেটের প্রকৃত মূল্য উল্টো কমেছে। অর্থাৎ, নামমাত্র দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতির তুলনায় সিগারেটের প্রকৃত দাম কমায় তামাকজাত পণ্যের সহজলভ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কর্মশালায় বক্তারা জানান, বর্তমান ‘অ্যাড ভ্যালোরিম’ বা মূল্যভিত্তিক কর কাঠামোর অন্যতম সীমাবদ্ধতা হলো, খুচরা মূল্য বাড়লেও সরকারের রাজস্ব একই হারে বাড়ে না। এ জন্য কর কাঠামোতে নির্দিষ্ট আবগারি কর যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পিপিআরসির বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট সিগারেট বাজারে নিম্নস্তরের সিগারেটের হিস্যা ছিল ৭৭ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মে মাস নাগাদ ৪৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বিপরীতে একই সময়ে মধ্যম স্তরের সিগারেটের হিস্যা ৯ থেকে বেড়ে ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
রাজস্ব আদায়ের তথ্য তুলে ধরে কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে সিগারেট খাত থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় হয়েছিল প্রায় ৭ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা নেমে আসে প্রায় ৪ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকায়, অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে পিপিআরসি বলেছে, নতুন ত্রৈমাসিক ভ্যাট ব্যবস্থার কারণে এই আপাত ঘাটতি দেখা দিতে পারে। প্রকৃত চিত্র জানতে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিগারেটের ব্যবহার কমাতে হলে জোরালো করব্যবস্থার মাধ্যমে একে আরও কম সাশ্রয়ী করতে হবে। তামাক করনীতি সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব কৌশলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত উল্লেখ করে পিপিআরসি জানায়, গত এক দশকে এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায়ের ১০ থেকে ১৩ শতাংশ এসেছে সিগারেট থেকে। কর্মশালায় তামাক বাজারের নজরদারি জোরদার, খোলা সিগারেট বিক্রি বন্ধ এবং নির্ধারিত খুচরা মূল্য ও প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়।
